21.8.14

হিযবুত তাহরীর-এর দ্বিতীয় আমীর শাইখ আবদুল কাদিম যাল্লুম

তাঁর নাম শাইখ আবদুল কাদিম বিন ইউসুফ বিন ইউনিস বিন ইবরাহীম আল শাইখ যাল্লুম এবং তিনি ছিলেন একজন বিখ্যাত মনীষী। হিজরী ১৩৪২ অর্থাৎ ১৯২৪ সালে ফিলিস্তিনের আল-খলিল শহরে তাঁর জন্ম। দ্বীন চর্চার জন্য তাঁর পরিবারের অনেক খ্যাতি ছিল। তাঁর পিতা একজন কুরআনের হাফিজ ছিলেন এবং জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত তিনি কুরআন তিলাওয়াতে নিমগ্ন ছিলেন। উসমানী খিলাফতের সময় তাঁর পিতা একজন শিক্ষক ছিলেন। তাঁর পিতার চাচা আবদুল গাফফার ইউনিস যাল্লুম উসমানী খিলাফতের সময়ে আল খালিল শহরে মুফতি ছিলেন।

যাল্লুম পরিবার মূলতঃ সেসব পরিবারের অন্তর্ভূক্ত যারা ইবরাহীমী মসজিদের অভিভাবক এবং এই পরিবার ইয়াকুব (আঃ) এর অন্যতম খাদেম। এই পরিবার শুক্রবারসহ অন্যান্য বিশেষ দিনে মসজিদের মিম্বরে ইসলামী পতাকা উত্তোলনের দায়িত্ব পালন করতো। উসমানি খিলাফত আল-খলিল শহরের বিখ্যাত পরিবারগুলোকে ইবরাহীমী মসজিদের তত্ত্বাবধায়ক নিয়োজিত করত এবং তাঁরা এ দায়িত্বকে অত্যন্ত সম্মান ও গৌরবের বিষয় মনে করত।

শাইখ আবদুল কাদিম যাল্লুমের জীবনের প্রথম পনের বছর আল-খালিল শহরে অতিবাহিত হয়। আল খালিলের ইবরাহীমী মাদ্রাসা হতে তিনি মৌলিক শিক্ষা অর্জন করেন এবং পরবর্তীতে তাঁর পিতা তাঁকে ইসলামী আইনশাস্ত্র বিষয়ে দক্ষতা অর্জনের জন্য আল আযহারে প্রেরণ করেন। তাই ১৫ বছর বয়সে তিনি আল আযহারের উদ্দেশ্যে কায়রো শহরে পাড়ি জমান। হিজরী ১৩৬১ তথা ১৯৩৯ সালে তিনি আল আযহার থেকে তাঁর প্রথম ডিগ্রি শাহাদাত আল আহলিয়াত আল ঊলাঅর্জন করেন। হিজরী ১৩৬৬ বা ১৯৪৭ সালে তিনি আল আযহার হতে আল আলিয়া লি কুলইয়াত আল শারীআহএবং হিজরী ১৩৬৮ বা ১৯৪৯ সালে তিনি শাহাদাত আল আলামিয়াডিগ্রি অর্জন করেন এবং ইসলামী আইন শাস্ত্রে বিশেষজ্ঞ হন, যা পিএইচডি ডিগ্রির সমতুল্য।

ইসরাইল-ফিলিস্তিন যুদ্ধের সময় তিনি মুসলিমদের একটি দল সংগঠিত করেন এবং মিশর ছেড়ে জিহাদের উদ্দেশ্যে ফিলিস্তিনে গমন করেন। কিন্তু সেখানে পৌঁছার পর তিনি জানতে পারেন যে, যুদ্ধ থেমে গিয়েছে এবং যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছে। যার ফলে ফিলিস্তিনে তাঁর জিহাদের উদ্দেশ্য সফল হয়নি। শাইখ যাল্লুম আল আযহারে যথেষ্ট সমাদৃত হয়েছিলেন এবং তাঁকে রাজা (মুলক) বলে ডাকা হত। তিনি একজন সুপরিচিত ছাত্র ছিলেন। ১৯৪৯ সালে আল খালিলে ফিরে এসে তিনি শিক্ষকতা পেশায় যোগদান করেন। বেথলেহেম মাদ্রাসার সাথে তিনি দুবছর সংযুক্ত ছিলেন। অতঃপর তিনি ১৯৫২ সালে আল খালিলে স্থানান্তরিত হন এবং উসামা বিন মাআকিজনামক মাদ্রাসায় শিক্ষকতা শুরু করেন।

১৯৫২ সালে তিনি শাইখ তাক্বি উদ্দীন আন-নাবাহানির সংস্পর্শে আসেন এবং আল কুদসে একটি হিযব (দল) গঠনের বিষয়ে শাইখ তাক্বি উদ্দীন আন-নাবাহানির সাথে তাঁর অনেক তর্ক-বিতর্ক এবং জ্ঞানগর্ভ আলোচনা হয়। এরপর থেকে তিনি এই পবিত্র শহরে প্রায়ই আসতে থাকেন। যেদিন থেকে হিযবুত তাহরীর-এর কাজ শুরু হয় সেদিন থেকেই তিনি হিযব-এ যোগদান করেন। তিনি ছিলেন একজন বিখ্যাত বক্তা এবং মানুষ তাঁকে অসম্ভব ভালোবাসত। শুক্রবারে যখন তিনি ইবরাহীমী ইউসুফিয়া মসজিদে খুতবা দিতেন, তখন বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বহু সংখ্যক লোক এসে জড়ো হতো তাঁর বক্তৃতা শোনার জন্য। শুক্রবারের নামাজের পর যখন তিনি ইবরাহীমী মসজিদে বয়ান করতেন তখনও প্রচুর লোক সমাগম হত। ১৯৫৪ সালের জনপ্রতিনিধি সভার নির্বাচনে তিনি প্রার্থী হিসেবে মনোনীত হন। এইভাবে ১৯৫৬ সালেও তিনি প্রার্থী হয়েছিলেন, কিন্তু সরকার নির্বাচনে কারচুপি করে তাঁকে পরাজিত ঘোষণা করে। অতঃপর তাঁকে গ্রেফতার করে আল জাফর আল সাহারায়ী কারাগারে প্রেরণ করে। সেখানে তিনি বহু বছর কাটানোর পর আল্লাহর সহায়তায় মুক্তি পান।

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর প্রতি সদয় হন, তিনি ছিলেন হিযব-এর প্রতিষ্ঠাতা নেতৃত্বের ডান হাত। তিনি ছিলেন প্রতিষ্ঠাতার ধনুকের তীর, উচ্চ পর্যায়ের ঝটিকা সফরে তিনি তাঁর ওপর আস্থা রাখতেন। তিনি নির্দ্বিধায় সর্বদা ইসলামের দাওয়াহর কাজকে তাঁর পরিবার ও এই ক্ষণস্থায়ী পৃথিবীর বিলাসিতা থেকে উর্ধ্বে স্থান দিয়েছেন। একদিন হয়তো তাঁকে তুরস্কে পাওয়া গেল, পরের দিনই তিনি চলে গেলেন ইরাকে, তার পরদিন আবার গেলেন মিশরে, এরপর গেলেন জর্ডানে বা লেবাননে, এভাবেই তাঁর জীবন অতিবাহিত হয়েছে। যেখানেই তাঁর প্রয়োজন পড়েছে, হক কথা বলার জন্য তিনি সর্বদা আমীরের সঙ্গি হয়েছেন। ইরাকের সফর ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং একজন সত্যিকারের সাহসী ব্যক্তিই এ গুরুদায়িত্ব কাঁধে নিতে সক্ষম ছিলেন। আমীরের প্রদত্ত দায়িত্ব তিনি গ্রহণ করেন ও সুচারুরূপে তা পালন করেন। আমীরের তত্ত্বাবধানে তিনি তাঁর দায়িত্ব দক্ষতার সাথে সম্পন্ন করেন।

হিযব-এর প্রতিষ্ঠাতা আমীর তাক্বি উদ্দীন আন-নাবাহানির মৃত্যুর পর দলের যাবতীয় দায়-দায়িত্ব তাঁর ওপর বর্তায়। তিনি এই সংগ্রামের বোঝা নিজ কাঁধে তুলে নেন এবং দাওয়াহ দিকে দিকে ছড়িয়ে পড়ে। দাওয়াহর ধরন পরিষ্কার হয়, এর পরিধি প্রসারিত হতে থাকে এবং এটি মধ্য এশিয়া থেকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় বিস্তৃত হয়। এই আহ্বানের ধ্বনি ইউরোপেও অনুরণিত হতে থাকে।

৮০ বছর বয়স পর্যন্ত এই দৃঢ়চেতা আমীর দাওয়াহর পতাকাবাহী হিসেবে তাঁর জীবন পার করেছিলেন; আমীরের ডান হাত হিসেবে ২৫ বছর এবং স্বয়ং আমীর হিসেবে প্রায় ২৫ বছর - যা তাঁর জীবনের দুই-তৃতীয়াংশ। আসন্ন মৃত্যু অনুমান করতে পেরে তাঁর দায়িত্বের পরিপূর্ণতা বিধানে তিনি তাঁর পদ থেকে পদত্যাগ করে পরবর্তী আমীর নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, পরবর্তীতে তাঁর অনুমানই সঠিক হয়েছিল। সোমবার, ১৪ মহররম, ১৪২৪ হিজরী মোতাবেক ১৭ মার্চ, ২০০৩ তিনি নিজে নেতৃত্বের পদ থেকে পদত্যাগ করেন এবং নতুন আমীর নির্বাচনের কয়েক দিন পরেই তাঁর আত্মা অনন্ত জীবনের পথে পাড়ি জমায়।

এরূপে, হিযবুত তাহরীর-এর আমীর, শাইখ আবদুল কাদিম যাল্লুম ৮০ বছর বয়সে ২৭ সফর, ১৪২৪, মঙ্গলবার রাত্রে (২৯ এপ্রিল, ২০০৩) তাঁর সৃষ্টিকর্তার সাক্ষাত লাভ করেন, ন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। তাঁর মৃত্যুতে অসংখ্য লোক আল খালিলের আবু গারবিয়া আল শারায়ীতে সমবেদনা জানাতে এসেছিল, যা ছিল এক অভূতপূর্ব দৃশ্য। লোকজন বিভিন্ন শহর ও গ্রাম থেকে এসেছিল। লেখক ও কবিরা তাঁর জীবন নিয়ে গদ্য ও কবিতা রচনা করেছিল। সমগ্র বিশ্ব থেকে টেলিফোন ও রেডিওতে শোকবার্তা এসেছিল। সুদান, কুয়েত, ইউরোপ, ইন্দোনেশিয়া, আমেরিকা, জর্ডান, ইরাক, মিশর ও অন্যান্য দেশ থেকে অসংখ্য শোকবার্তা এসেছিল। একই সময়ে বৈরুত (লেবানন) ও আম্মানে (জর্ডান) অসংখ্য লোক জমায়েত হয়েছিল।

শাইখ যাল্লুম রাহীমুল্লাহ দ্বীনের ব্যাপারে একজন সাহসী এবং আত্মপ্রত্যয়ী মানুষ ছিলেন। এ ব্যাপারে তিনি কারোর তিরস্কারকে তোয়াক্কা করেননি। তিনি ছিলেন প্রকৃতপক্ষে একজন সক্রিয় ব্যক্তি যিনি কখনও ক্লান্ত ও হতাশ হননি। তিনি ছিলেন উঁচু স্তরের নাফসিয়া (মানসিকতা) ও মানবিকতার মূর্ত প্রতীক। হারাম থেকে তিনি নিজেকে অনেক দূরে রাখতেন। তাঁর ছিল অতিমাত্রায় সহ্যক্ষমতা, ধৈর্য্য ও অমায়িকতা। তাঁর অত্যন্ত কাছের বন্ধুরা বলেছেন যে, তিনি রাত জেগে ইবাদত করতেন এবং আল্লাহর আয়াত তিলাওয়াত করে কাঁদতেন। তিনি দাওয়াহর ক্ষেত্রে ছিলেন সুদৃঢ় ও অবিচল। তিনি তাঁর জীবন অখ্যাত হিসেবে কাটিয়েছেন, এ ক্ষণস্থায়ী জীবন ছেড়ে বিদায় নেয়ার আগ পর্যন্ত অত্যাচারী শাসকরা সর্বদা তাঁর পেছনে লেগে ছিল। একমাত্র আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলাই তার সংগ্রামের উত্তম প্রতিদান দিতে পারেন। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা তাঁর ওপর অসীম রহমত বর্ষণ করুন। আমিন।

নিম্নোক্ত পুস্তক ও পুস্তিকাগুলো তাঁর দায়িত্বে থাকাকালীন সময়ে হিযবুত তাহরীর কর্তৃক প্রকাশিত হয়ঃ

. খিলাফত রাষ্ট্রের অর্থ ব্যবস্থাপনা
. ইসলামের শাসন ব্যবস্থাবইয়ের সংযোজন
. গণতন্ত্র একটি কুফর ব্যবস্থা
. ক্লোনিং ও অঙ্গ প্রতিস্থাপনে শারীআহ-এর বিধান
. পরিবর্তনের জন্য হিযবুত তাহরীর-এর কর্মপদ্ধতি
. হিযবুত তাহরীর
. ইসলাম ধ্বংসে আমেরিকার প্রচারণা
. জর্জ বুশ কর্তৃক মুসলিমদের ওপর ক্রুসেড আক্রমণ
. শেয়ার বাজারের সংকট ও ইসলামী সমাধান
১০. সভ্যতার দ্বন্দ্বের অবশ্যম্ভাবীতা

Sheikh Abdul Qadeem Zallum (Ameer of Hizb ut-Tahrir 1977-2003)


 
The Best Successor for the Leadership of Hizb

His name is Sheikh Abdul Qadeem Bin Yusuf Bin Yunis Bin Ibrahim Al Sheikh Zallum and he was a renowned scholar. He was born in the city of Al Khalil in 1342 (Hijri) or 1924 (CE). His family was known for the practice of Deen. His father was a Hafiz e Qur’an and even in the last years of his life, he would be busy in the recitation of Holy Qur’an. His father was a teacher during the time of the Uthmani Khilafah.

His father’s paternal uncle, Abdul Ghaffar Yunis Zallum, was a mufti in Al Khalil during the time of the Uthmani Khilafah. The Zallum family is one of those families that are the trustee of Ibrahimi mosque and thus, this family is one of the servants of Yaqoob (as). This family is entrusted with the responsibility of hoisting the Islamic flag at the minbar on Fridays and various occasions.

The Uthmani Khilafah used to entrust the renowned families of Al Khalil with the responsibility of taking care of Ibrahimi mosque and these families used to feel honour and pride in undertaking this responsibility.

The first fifteen years of the life of Sheikh Abdul Qadeem Zallum were spent in the city of Al Khalil. He acquired the basic education from the Ibrahimi Madrassah of Al Khalil and after that, his father sent him to Al Azhar so that he became an expert in Islamic jurisprudence. So, at the age of 15, he left for Al Azhar in Cairo. It was 1939, 1361 (Hijri) when he acquired his first degree from Al Azhar – Shahada tal Ahliya tal Oola. In 1947, 1366 (Hijri) he obtained the degree of Al ‘Aliya Li Kuliya tal Sharia’ from Al Azhar and then in 1949, 1368 (Hijri) he obtained Shahada tal ‘Alamiya and specialized in Judiciary which is equivalent to the Ph.D of modern times.

He organized a group of Muslims during the Israel-Palestine war and left Egypt for Palestine for the purpose of Jihad. But on reaching there, he came to know that the war has been stopped and a ceasefire agreement has taken place. Therefore, his purpose of Jihad could not be met in Palestine. Sheikh was held dearly in Al Azhar University and was called ‘Mulk’ (King). He was always a prominent student. He joined the occupation of teaching upon his return to Al Khalil in 1949. He was associated with the Madarassah of Bethlehem for two years. He then shifted to Al Khalil in 1951 and became a teacher at Madrassah Usama bin Ma’aqiz.

In the year 1952, this man had his interaction with Sheikh Taqi which gave way to continuous debated and arguments, with respect to the topic of a Hizb at Al Quds; thus he used to travel constantly to this blessed city for this purpose. Sheikh Zallum joined Hizb from the day the party started its work and in the year 1956, he emerged as a leader in the Hizb. He was a great orator and people used to love him. On Fridays, he used to preach in Ibrahimi Yusufiya mosque and a great crowd would gather to listen to him. Then after Friday prayers, he used to preach in Ibrahimi mosque where people also would gather to listen to him in great numbers. Sheikh was nominated as a candidate in the election for House of Representatives in 1954. Similarly, he was a candidate in 1956 but the state rigged the elections and he was declared unsuccessful. He was arrested and was imprisoned in Al Jaffer Al Saharawi where he spent many years, before finally being released with the help of Allah (swt).

May Allah (swt) have mercy on him; he was the right hand of the founding leader.  He was an arrow in the quiver of the founder; he used to trust him for high profile expeditions. He never showed any hesitation and always preferred Da’wa over his family and luxuries of this temporary world. One day he is found in Turkey, the other day he is present in Iraq, the next day it was Egypt and then went to Jordan and Lebanon, so on and so forth. Wherever he was demanded, he used to accompany the Ameer to speak the truth. The expedition of Iraq was a very crucial one and only a real daring man could undertake this responsibility. The Ameer bestowed him with this duty and he accepted the responsibility, under the supervision of Ameer and fulfilled his obligation in a brilliant manner.

At the time of death of the founding leader, the duty of this Da’wa was rested upon his shoulders. He carried the burden of this struggle and the Da’awa progressed in leaps and bounds. The style of Da’awa got clearer, its area of action got so wide that it reached Central Asia and South East Asia. The echo of this message was even heard in Europe as well.

During the time of this esteemed scholar, the fitna of the Nakitheen 2Oath breakers” emerged. Some people got influenced by the whispers of the devils and took advantage of Sheikh’s patience. These people committed breach of oath; one night, they conspired to lead the party caravan astray and give a fatal blow to the party. It was only with the blessing of Allah (swt) and then with the insightful intellect and perseverance of the Sheikh Abdul Qadeem Zallum that the 000 was saved from any irreparable damage; rather the 000 came out of this crisis stronger and those conspirators achieved nothing but humiliation.

This unwavering scholar continued to be the leader and flag bearer of Da’aw till the age of 80 when his intuition about his impending death made him take a decision about this work for which he spent two thirds of his life – 25 years in the capacity of right hand of Ameer and almost 25 years in the capacity of Ameer himself. He wanted a satisfactory fulfillment of his responsibility; therefore, he decided to resign from the leadership role and hold elections for next Ameer which was exactly what happened. On Monday, Moharram 14, 1424 (Hijri) or March 17, 2003 he himself resigned from the leadership and within a few days after the election of the new Ameer his soul left for the eternal world.

Thus, this great ocean of knowledge, the Ameer of Hizb ut Tahrir, Sheikh Abdul Qadeem Zallum, met his creator at the age of 80 on Tuesday night dated Safar 27, 1424 (Hijri) or April 29, 2003, Inna Lillahi wa Inna Ilaihi Raji’un. On his death, the number of people that came for condolence in Al Khalil – Abu Gharbiya Al Sha’rawi was an unprecedented spectacle. People came from various cities and villages. Poets and writers wrote poetry and prose about his life. Condolence messages were received from all over the world on telephone and radio. Numerous condolence messages were received from Sudan, Kuwait, Europe, Indonesia, America, Jordan, Egypt, and other countries. At the same time, a huge crowd gathered in Beirut (Lebanon) and Amman (Jordan).

The Sheikh raheemullah was a courageous and bold man when it comes to the matter of Deen. He never cared for any reprimand in this regard. He was really an active person, who neither got tired of his efforts nor despaired. He was an embodiment of disposition and high morals. He kept himself at a great distance from anything that was Haram. He was extremely tolerant, patient and gracious. His close friends mention that he used to stay awake at nights for worship and would cry while reciting the ayah of Allah (swt). He was extremely steadfast and firm in Da’awa. He lived his life in obscurity, oppressive rulers were always after him till the moment he died and left this temporary world. Only Allah (swt) can grant him his reward for his struggle. May Allah (swt) shower him with his countless blessings, ameen.

Following are his books and booklets that were published by Hizb ut Tahrir during his time:

1.      Funds in the Khilafah State
2.     Addition to the Book ‘The Ruling System of Islam’
3.     Democracy is a kufr system
4.     Sharai’ ruling regarding Cloning and Organ Transplant
5.     Methodology of Hizb ut Tahrir to bring change
6.    Hizb ut Tahrir
7.     American Campaign to destroy Islam
8.     The Crusade Attack by George Bush on Muslims
9.     The Crisis of the Stock Market and related Islamic ruling
10. The Clash of Civilizations is inevitable

হিযবুত তাহরীর-এর প্রতিষ্ঠাতা আমির শাইখ আল্লামা তাক্বি উদ্দীন নাবাহানি (র.)

হিযবুত তাহরীর-এর প্রতিষ্ঠাতা তাক্বি উদ্দীন বিন ইব্রাহিম বিন মুস্তাফা বিন ইসমাঈল বিন ইউসুফ আল-নাবাহানি বনি নাবাহান বংশের সাথে সংযুক্ত। তিনি ১৩৩২ হিজরী (১৯১৪ খ্রিস্টাব্দ) উত্তর ফিলিস্তিনের হাইফা শহরের আজযাম গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পরিবার জ্ঞান, দ্বীনের চর্চা ও তাকওয়ার জন্য পরিচিত ছিল। তাঁর পিতা শাইখ ইব্রাহিম একজন বিচারক এবং জ্ঞান ও কলা মন্ত্রণালয়ের অধীনে শারীআহ বিশেষজ্ঞ ছিলেন। তার মাতাও একজন শারীআহ বিশারদ ছিলেন, যা তিনি তার পিতা শাইখ ইউসুফ আল নাবাহানির কাছ থেকে অর্জন করেছিলেন।

বিভিন্ন বর্ণনায় তার নানা সম্পর্কে এসেছে - শাইখ ইউসুফ বিন ইসমাঈল বিন ইউসুফ বিন হাসান বিন মোহাম্মদ আল নাবাহানি আল শাফঈ - তার কুনিয়াত ছিল আবু আল মাহসিনএবং তিনি ছিলেন একজন কবি, সুফী এবং সাহিত্যিক ব্যক্তিত্ব। তিনি তার সময়ে অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিচারক ছিলেন। তিনি নাবলুসের জেনিন শহরে বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন। পরে তিনি ইস্তাম্বুলে স্থানান্তরিত হন, যেখানে তিনি বিচারক হিসেবে মাসুল শহরের কাভি সানজাক এলাকায় দায়িত্ব পালন করেন। এরপর তিনি আল আযকিয়াহ এবং আল কুদসের রয়েল কোর্টের প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব লাভ করেন। অতঃপর তিনি বৈরুতের অধিকার সম্পর্কিতকোর্টের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি ৪৮টি বইয়ের লেখক ছিলেন।

শাইখ তাক্বি উদ্দীন এর ইসলামী ব্যক্তিত্বের বেশিরভাগই তাঁর পরিবারের কাছ থেকে এসেছে। তিনি ১৩ বছর বয়সে পবিত্র কুরআন শরীফ মুখস্ত করেছিলেন। তিনি তাঁর নানার জ্ঞান ও চিন্তা দ্বারা ব্যাপকভাবে উদ্বুদ্ধ হয়েছিলেন এবং তিনি তাঁর থেকে যতটা পেরেছেন আত্মস্থ করেছিলেন। ছোটবেলা থেকেই তিনি রাজনৈতিকভাবে সচেতন হয়ে উঠেছিলেন, বিশেষ করে তাঁর নানা উসমানী খিলাফতের পক্ষে যে রাজনৈতিক আন্দোলনের সূচনা করেছিলেন তা থেকে তিনি শিক্ষা গ্রহণ করেছিলেন। তাঁর নানা শাইখ ইউসুফ কর্তৃক আয়োজিত আইন বিষয়ক বিতর্ক ও আলোচনা থেকে তিনি অনেক উপকৃত হয়েছিলেন। এই সকল আলোচনা সভায় তিনি তাঁর নানার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন। এজন্য শাইখ ইউসুফ, শাইখ তাক্বির পিতাকে উৎসাহিত করেন তাঁকে আল-আযহারে পাঠানোর জন্য, যাতে তিনি উলূম-ই-শর এর ওপর জ্ঞান আহরণ করতে পারেন।

জ্ঞানার্জনঃ

শাইখ তাক্বি, আল আযহারে ১৯২৮ সালে অষ্টম গ্রেডে ভর্তি হন এবং একই বছর কৃতিত্বের সাথে পরীক্ষা শেষ করেন। তিনি শুহাদা আল গুরবাসনদ অর্জন করেন। এরপর তিনি বিজ্ঞান কলেজে ভর্তি হন, যা তখন আল আযহারের সাথে সংশ্লিষ্ট ছিল। তিনি জ্ঞান অন্বেষণে বিভিন্ন শাইখের আলোচনা সভায় অংশ নেন, যাদের সম্পর্কে তাঁর নানা তাঁকে অবহিত করেছিলেন; যেমনঃ শাইখ মুহাম্মাদ আল খিজার হোসাইন (র.)। শিক্ষার পুরাতন পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীদের জন্য এসব পাঠচক্রে অংশগ্রহণ উন্মুক্ত ছিল। শাইখ নাবাহানি এসব পাঠচক্রে নিয়মিত অংশ নিতেন, যদিও তিনি বিজ্ঞান কলেজে পড়াশুনা করতেন। কায়রোসহ বিভিন্ন অঞ্চলে অনুষ্ঠিত বিতর্ক সভায় তিনি গভীর জ্ঞান, সুচিন্তিত মতামত এবং তীক্ষ্ণ যুক্তি-তর্কের স্বাক্ষর রাখেন, যা দেখে তাঁর সমসাময়িক ছাত্র-শিক্ষকরা পর্যন্ত তাঁর জ্ঞানের হিংসা করতেন।

শাইখ যে ডিগ্রিসমূহ অর্জন করেছিলেন সেগুলো হলো - আল আযহার থেকে উচ্চ মাধ্যমিক, ‘শাহাদা তাল গুরবাআল আযহার থেকে, কায়রো দার উল উলূম থেকে আরবী ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতক ডিগ্রি, বিচারক হওয়ার ডিগ্রি মাহাদ আল আলা ইনস্টিটিউটথেকে, যা শারীআহ কোর্টের অধিভুক্ত ও আল আযহারের সাথে সংশ্লিষ্ট, এবং ১৯৩২ সালে আল আযহার থেকে শারীআহ এর ওপর শাহাদা তাল আলামিয়াহমাস্টার্স ডিগ্রি।

শাইখ যে সকল পদে আসীন ছিলেনঃ

শাইখ ১৯৩৮ সাল পর্যন্ত জ্ঞান ও কলা মন্ত্রণালয়ের অধীন শর’ঈ শিক্ষা ডিপার্টমেন্টে কর্মরত ছিলেন। তিনি পদোন্নতি পেয়ে শর কোর্টে বদলি হন এবং হাইফার কেন্দ্রীয় কোর্টে এটর্নি হিসেবে নিযুক্ত হন। এরপর তিনি সহকারী বিচারক হিসেবে পদোন্নতি লাভ করেন। অতঃপর ১৯৪৮ সাল পর্যন্ত রামাল্লাহর কোর্টে বিচারক হিসেবে কর্মরত থাকেন। ইহুদীদের দ্বারা ফিলিস্তিন দখলের পর তিনি সিরিয়ায় চলে যান এবং একই বছর আল কুদসের শর কোর্টের বিচারক হিসেবে ফিরে আসেন। অতঃপর ১৯৫০ সাল পর্যন্ত তিনি হাইকোর্টের শর বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর তিনি উক্ত পদ থেকে পদত্যাগ করেন এবং ওমানের ঊলূম-ই-ইসলামিয়াকলেজে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। জ্ঞানের সকল শাখায়ই ছিল তাঁর সর্বোচ্চ দখল। তিনি ছিলেন মুজতাহিদ মুতলাক এবং মুহাদ্দিস।

শাইখ তাক্বির লিখিত বইসমূহঃ

. ইসলামের ব্যবস্থাসমূহ
. দল গঠন প্রণালী
. হিযবুত তাহরীর-এর ধারণাসমূহ
. ইসলামের অর্থনৈতিক ব্যবস্থা
. ইসলামের সামাজিক ব্যবস্থা
. ইসলামের শাসন ব্যবস্থা
. খিলাফত রাষ্ট্রের সংবিধান
. সংবিধানের ভূমিকা
. ইসলামী রাষ্ট্র
১০. ইসলামী ব্যক্তিত্ব (খন্ড: ১-৩)
১১. হিযবুত তাহরীর-এর রাজনৈতিক ধারণাসমূহ
১২. রাজনৈতিক চিন্তা
১৩. একটি উষ্ণ আহ্বান
১৪. খিলাফত
১৫. চিন্তা
১৬. স্বতঃস্ফূর্ত চিন্তা
১৭. সামাজিক স্তরে দাওয়াহ শুরুর পর্যায়
১৮. সমাজে প্রবেশ
১৯. লিসলাহ-ই মিশর
২০. আল ইত্তেফাক্বিয়াত আস সানিয়া আল মাসতিয়া আল সুরিয়া ওয়াল ইয়ামনিয়া
২১. হাল ক্বাদীহ ফালাস্তিন আলা তারিক্বা তাল আমরিকিয়া ওয়াল ইঙ্গলিজীয়া
২২. নাজরিয়া আল ফারাগ আল সিয়াসি হুল মাশরুউইজান হাওয়ার

এছাড়া রয়েছে শত শত বুদ্ধিবৃত্তিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিষয়ের ওপর নিবন্ধ।

যখন তাঁর বই ও নিবন্ধ প্রকাশনাসমূহ নিষিদ্ধ করা হয়, তখন তাঁর যেসব পুস্তক অন্যদের নামে প্রকাশ হয়ঃ

. অতুলনীয় অর্থনৈতিক পলিসি
. মার্ক্স এর কম্যুনিজমের ভ্রান্তিসমূহ
. খিলাফত কিভাবে ধ্বংস হয়েছিল
. ইসলামের সাক্ষ্য আইন
. ইসলামের দন্ডবিধি
. নামাজের নিয়ম
. ইসলামী চিন্তা

হিযবুত তাহরীর প্রতিষ্ঠার পূর্বে তিনি দুটি বই লিখেছিলেন: আনকাজ ফালাস্তিন, রিসলাতাল আরাব।

তাঁর চরিত্র ও গুণাবলীঃ

যুহাইর কাহালা, ইসলামী বিজ্ঞান কলেজের একজন শিক্ষক যিনি প্রশাসনেরও দায়িত্বে ছিলেন; শাইখ তাক্বি একই কলেজে কর্মরত থাকাকালীন তিনিও ঐ কলেজে চাকুরীরত ছিলেন। তিনি বর্ণনা করেন, “শাইখ ছিলেন একজন বুদ্ধিমান, মহান এবং একজন স্বচ্ছ মনের মানুষ। তিনি একনিষ্ঠ, মর্যাদাসম্পন্ন এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বের অধিকারী ছিলেন। মুসলিম উম্মাহর হৃদয়ের মধ্যে ইহুদি সত্ত্বার উপস্থিতি তাঁকে একইসাথে দুঃখিত ও রাগান্বিত করেছিল।

তিনি ছিলেন মাঝারী উচ্চতার অধিকারী, স্বাস্থ্যবান, সদা সক্রিয় ও স্পষ্টবাদী বিতার্কিক। তাঁর সকল কর্মকান্ডে ছিল মেধা ও গতিশীলতার স্বাক্ষর। তিনি তাঁর যুক্তি উপস্থাপনে ছিলেন অদ্বিতীয়। যা তিনি হক্ব বলে বিশ্বাস করতেন, তার সাথে কখনও আপোষ করেননি। তাঁর দাড়ি ছিল লম্বায় মধ্যম ও কাঁচা-পাকা ধরনের। তাঁর ব্যক্তিত্ব ছিল সম্মোহনী এবং তাঁর কথোপকথন ছিল প্রভাব বিস্তারকারী। তাঁর যুক্তি অন্যদেরকে হতবিহ্বল করে দিত। তিনি উদ্দেশ্যহীন সংগ্রাম, ব্যক্তিগত আক্রমণ ও উম্মাহর স্বার্থ থেকে বিচ্যুতি তীব্রভাবে ঘৃণা করতেন। ব্যক্তিগত জীবনের ব্যস্ততা নিয়ে হারিয়ে যাওয়াকে তিনি অপছন্দ করতেন। তিনি সবসময় উম্মাহর শুভ কামনায় ব্যস্ত ও চিন্তিত থাকতেন। যে উম্মাহর খোঁজ-খবর নেয় না, সে আমার দলভুক্ত নয়”- নবী (সাঃ) এর এই হাদিসের তিনি ছিলেন মূর্ত প্রতীক। তিনি এই হাদিসটি বারবার বলতেন এবং তাঁর ব্যস্ততার যুক্তি হিসেবে উপস্থাপন করতেন। তিনি দুঃখ প্রকাশ করতেন যে, ইমাম গাজ্জালী (র.) ক্রুসেডারদের আক্রমণের সময়ে এহিয়াএ উলূম উদ দ্বীনবই লেখায় ব্যস্ত ছিলেন।

হিযবুত তাহরীর-এর প্রতিষ্ঠা ও এর পথ চলাঃ

শাইখ তাক্বি উদ্দীন চতুর্দশ হিজরী শতাব্দীর পরে প্রতিষ্ঠিত দল, আন্দোলন এবং সংগঠনগুলো বিশ্লেষণ করেন। তিনি তাদের কাজের ধরনসমূহ, চিন্তা, সমাজে প্রভাব বিস্তার করার প্রক্রিয়া ও তাদের ব্যর্থতা ইত্যাদি বিষয় গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। যেহেতু শাইখ খিলাফত বাস্তবায়নের পূর্বশর্ত হিসেবে একটি দলের উপস্থিতি অত্যাবশ্যকীয় মনে করতেন, সেজন্য তিনি অন্যান্য দলসমূহকে গভীরভাবে বিশ্লেষণ করেছেন। ধিকৃত মোস্তাফা কামাল পাশা আতাতুর্কএর হাতে খিলাফত শাসনব্যবস্থা ধ্বংসের পর, অনেক ইসলামী আন্দোলনের উপস্থিতির পরও মুসলিমরা খিলাফত পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়নি। বৃটিশদের দালাল জর্দান, মিশর ও ইরাক সরকারের সহায়তায় ১৯৪৮ সালে ইসরাইল কর্তৃক ফিলিস্তিনের ভূমি দখল এবং ইহুদীদের কাছে আরবদের অসহায়ত্ব শাইখ তাক্বি উদ্দীনের অনুভূতিকে বেশি আলোড়িত করে। এরপর তিনি কারণ অনুসন্ধান শুরু করলেন যা মুসলিম উম্মাহকে পুনর্জাগরণের দিকে নিয়ে যাবে। শাইখ প্রথমে মুসলিম উম্মাহ পুনর্জাগরণের জন্য দুটি বই লিখেনঃ

১. আরবদের বার্তা
২. আনকাজ ফিলিস্তিন

এই বইগুলো ১৯৫০ সালে প্রকাশিত হয়। এই বইসমূহে শুধু চিন্তা, আক্বিদা ও উম্মাহ প্রকৃত সমাধান তথা ইসলামের বার্তা নিয়ে আলোচনা করা হয়। অর্থাৎ বইগুলোতে বলা হয় আরবদের শুধু ইসলামের ভিত্তিতেই পুনর্জাগরণ খোঁজা উচিত। আরব জাতীয়তাবাদীদের বার্তা শায়খের বার্তা থেকে ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। আরব জাতীয়তাবাদী কর্তৃক প্রচারিত চিন্তা উম্মাহ ও ইসলামের প্রকৃত বার্তার মধ্যে ব্যাপক ব্যবধান ছিল; ফলে তাদের বার্তা উম্মাহকে ইসলাম থেকে আরো দূরে সরিয়ে দিচ্ছিল। তাদের বার্তার সাথে অনেক পশ্চিমা ধারণা জড়িত ছিল, যা ইসলামী আক্বিদা ও মূল্যবোধের সাথে সাংঘর্ষিক। আরব জাতীয়তাবাদীদের ধারণাসমূহ, যা ছিল তাদের চলার পাথেয়, তা শাইখের সামনে উপস্থাপন করা হলে তিনি তা পড়েছেন, দেখেছেন এবং বিশ্লেষণ করেছেন। তাদের পরামর্শ ও সমাধানসমূহ পর্যালোচনা করেছেন। তিনি এসব ধারণায় ও পরামর্শে মোটেও সন্তুষ্ট ছিলেন না।

কোন সিদ্ধান্তে আসার আগে তিনি মিশরে যাদের সাথে দেখা হয়েছে ও যাদের সম্পর্কে জানতেন এমন সকল শাইখদের সাথে যোগাযোগ করেছেন। তিনি শাইখদের কাছে উম্মাহর পুনর্জাগরণ ও উজ্জ্বলময় অতীত ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে একটি দল গঠন করার ইচ্ছা ব্যক্ত করেন। এজন্য তিনি ফিলিস্তিনের সর্বত্র ঘুরে বেড়ান এবং বিখ্যাত সকল শাইখ ও বুদ্ধিজীবীদের নিকট তাঁর চিন্তা ব্যক্ত করেন, যা তার মন ও মগজে প্রোথিত ছিল। তিনি এ লক্ষ্যে সেমিনারের আয়োজন করেন এবং ফিলিস্তিনের সকল এলাকা থেকে শাইখদের আমন্ত্রণ জানান। এইসব সেমিনারে তিনি পুনর্জাগরণের সঠিক কর্মপদ্ধতি নিয়ে শাইখদের সাথে বিতর্ক করেন এবং অংশগ্রহণকারীদের বলেন তারা ভুল পদ্ধতিতে চেষ্টা করছেন এবং তাদের চেষ্টা কোন ফল দেবেনা। সেমিনারে অংশগ্রহণকারী এই চিন্তাবিদদের মধ্যে বেশিরভাগই ছিলেন বিভিন্ন ইসলামী, রাজনৈতিক ও জাতীয়তাবাদী দলের দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গ। এছাড়াও তিনি আল-আকসা, আল-খালিলসহ বিভিন্ন মসজিদে অসংখ্য রাজনৈতিক ইস্যুতে বিভিন্ন সময়ে বিস্তারিত বক্তব্য প্রদান করতেন। তিনি আরব লীগের আসল চেহারা উন্মোচন করেছিলেন এবং বলতেন, ওটা পশ্চিমা ঔপনিবেশিক শক্তির ক্রীড়ানক এবং এটা হলো তাদের অসংখ্য হাতিয়ারের মধ্যে একটি হাতিয়ার, যার মাধ্যমে পশ্চিমারা ইসলামী ভূমিগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করে চলেছে। শাইখ পশ্চিমাদের রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র তুলে ধরতেন এবং পশ্চিমাদের ইসলাম ও মুসলিমবিরোধী পরিকল্পনার আচ্ছাদন উন্মোচন করে দিতেন। তিনি মুসলিমদের দায়িত্ববোধ জাগ্রত করা ও সত্যিকার ইসলামের ওপর ভিত্তি করে দল গঠনের আহ্বান জানাতেন।

শাইখ তাক্বি উদ্দীন প্রতিনিধিত্বকারী সভার প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেন, যা ছিল শুধু পরামর্শ সভা কমিটি। কিন্তু তাঁর সুদৃঢ় মতামত, রাজনৈতিক কর্মকান্ড, ইসলামী রাজনৈতিক দল গঠনে তাঁর জোরালো ভূমিকা ও ইসলামকে আঁকড়ে ধরার মানসিকতার কারণে সরকার নির্বাচনের ফলাফল তাঁর বিপক্ষে ঘুরিয়ে দেয়।

এই ঘটনা শাইখকে তাঁর রাজনৈতিক কর্মকান্ড থেকে বিরত রাখতে বা তাঁর দৃঢ় মনোবলকে দুর্বল করে দিতে পারেনি বরং তিনি সমর্থক সংগ্রহ ও বিতর্ক করে গেছেন। তাঁর এই কার্যক্রমের মাধ্যমে তিনি দল গঠনে সফলভাবে বিখ্যাত শিক্ষানুরাগী, বিচারক এবং রাজনৈতিক চিন্তাবিদদের বুঝাতে সক্ষম হয়েছিলেন। তিনি তাঁর চিন্তা ও কাঠামো এই সকল বিশেষ ব্যক্তিবর্গের সামনে উপস্থাপন করেন, যা হিযব-এর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে। কিছু বুদ্ধিজীবী ও চিন্তাশীল ব্যক্তিবর্গ তাঁর চিন্তাকে গ্রহণ করেছিলেন এবং সমর্থন দান করেছিলেন; এভাবে তাঁর দল গঠন প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়।

আশীর্বাদপুষ্ট শহর আল-কুদসেই হিযব-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছিল, যেখানে শাইখ সুপ্রীম কোর্টের বিচারক ছিলেন। ঐসময় তিনি অনেক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের সাথে যোগাযোগ করেন; এদের মধ্যে কালকীলার শাইখ আহমদ দাউর, মিশরের সাইয়্যেদান নি, রামাল্লার দাউদ হামদান, আল খালিলের শাইখ আবদুল কাদিম যাল্লুম, আদিল আল নাবলুসি, গানিম আবদু, মুনীর শাকীর, শাইখ আসআদ বিউয তামিমি প্রমুখ।

শুরুতে প্রতিষ্ঠাতাদের মধ্যকার মিটিং ছিল অসংগঠিত এবং প্রয়োজনের ভিত্তিতে। বেশিরভাগ মিটিংই আল কুদ বা আল খালিলে সংঘটিত হয়েছিল, যেখানে লোকদের হিযবে অংশগ্রহণ করার জন্য আহ্বান ও এ নিয়ে বিতর্ক হতো। বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু ছিল উম্মাহর জন্য গুরুত্বপূর্ণ ইসলামী বিষয়সমূহ। এই ধারা ১৯৫২ সালের শেষ অবধি চলতে থাকে, যখন এই লোকসকল একটি রাজনৈতিক দল গঠনে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হন।

হিযব-এর পাঁচজন প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ১৯৫২ সালের ১৭ নভেম্বর জর্ডানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে একটি রাজনৈতিক দল প্রতিষ্ঠার অনাপত্তিপত্র (এনওসি) প্রদানের অনুরোধ জানান। এই সদস্যগণ হলেনঃ

১. তাক্বি উদ্দীন নাবাহানী - প্রধান
২. দাউদ হামদান - উপপ্রধান এবং সেক্রেটারী
৩. গানিম আবদুহ - অর্থ বিষয়ক দায়িত্বশীল
৪. আদিল আল নাবুলসি - সদস্য
৫. মুনীর শাকীর – সদস্য

এরপর হিযব সকল আইনগত বিষয়াদি সম্পাদন করে, যা জর্ডানে বলবৎ উসমানি আইনে দল গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ছিল। হিযব-এর কেন্দ্রীয় অফিস ছিল আল কুদসে এবং এই দল কর্তৃক গৃহীত সকল কর্মকান্ডই উসমানি আইন অনুযায়ী সঠিক ছিল।

হিযব কর্তৃক আল সারেহ সংবাদপত্রে (ইস্যু নং ১৭৬, ১৪ মার্চ, ১৯৫৩/২৮ জমাদিউল আউয়াল, ১৩৭২ হিজরী) দলের গঠনতন্ত্র এবং পরিচালনার শর্তাবলীপ্রকাশের পর, হিযবুত তাহরীর একটি বিধিবদ্ধ দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। এই দিনে হিযবুত তাহরীর কার্যক্রম পরিচালনার আইনগত অধিকার পায়, যা ছিল রাষ্ট্রের আইনানুগ।

অথচ সরকার হিযব-এর সকল (পাঁচজন) প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের তলব করে জিজ্ঞাসাবাদ করে এবং এদের মধ্যে ৪ জনকে গ্রেফতার করে। ২৩ মার্চ, ১৯৫৩ (৭ রজব, ১৩৭২ হিজরী) সালে সরকার এক বিবৃতির মাধ্যমে হিযবকে নিষিদ্ধ করে এবং এর প্রতিষ্ঠাতাদের সকল প্রকার কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়। সরকারের আদেশ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ১ এপ্রিল হিযব-এর আল কুদসের অফিসের সকল ব্যানার ও পোস্টার খুলে ফেলা হয়।

শাইখ তাক্বি সরকারের নিষেধাজ্ঞাকে তোয়াক্কা না করে কাজ অব্যাহত রাখেন। যে উদ্দেশ্যে হিযব গঠিত হয়েছে তিনি সে বার্তা ছড়াতে থাকেন। দাউদ হামদান এবং নিমর মিশরী ১৯৫৬ সালে নেতৃত্বের পদ থেকে সরে দাঁড়ান এবং শাইখ আব্দুল কাদিম যাল্লুম এবং শাইখ আহমাদ দাউর তাঁদের স্থলাভিষিক্ত হন। এই মর্যাদাবান মনীষীরা হিযব-এর নেতৃত্বে আসেন এবং এই মহিমান্বিত আহ্বানের প্রতি তাঁদের দায়িত্ব পরিপূর্ণভাবে পালন করেন।

ইসলামী জীবনব্যবস্থা পুনর্জাগরণের লক্ষ্যে হিযব আল আকসা মসজিদে জমায়েত হবার স্থানে সমষ্টিগতভাবে উম্মাহকে উদ্বুদ্ধ করার কাজ করে যায়। হিযব-এর আশ্চর্যজনক কর্মকান্ড দমনে তৎকালীন সরকার সস্তা উপায় অবলম্বন করে, যাতে করে হিযব একটি শক্তিশালী সংগঠন হিসেবে আবির্ভূত হতে না পারে। শাইখ তাক্বি এই পরিস্থিতির প্রাক্কালে এ অঞ্চল ১৯৫৩ সালের শেষের দিকে ত্যাগ করেন এবং দ্বিতীয়বার তাঁকে ফিরে আসতে দেয়া হয়নি।

শাইখ তাক্বি ১৯৫৩ সালে সিরিয়া চলে যান এবং সেখানে সিরিয়ার সরকার তাঁকে গ্রেফতার করে লেবাননে নির্বাসনে পাঠায় কিন্তু লেবাননের সরকার তাঁকে ঢুকতে বাধা দেয়। শাইখ তাক্বি যখন আল হারীর উপত্যকায় পুলিশ ষ্টেশনে লেবাননে ঢোকার অনুমতি চাইলেন, তখন দায়িত্বরত কর্মকর্তা তাঁকে বাধা দেয়। তখন তিনি তাঁর বন্ধুকে খবর দিতে চাইলে অফিসার তাঁকে অনুমতি দেয়। শাইখ তাঁর বন্ধু মুফতি শায়খ হাসান আল আলাকে ডেকে তাঁর অবস্থা খুলে বললেন। শাইখ আল আলা সাথে সাথে অফিসারদের হুমকি দিয়ে বললেন শায়খ তাক্বিকে ঢুকতে না দিলে তিনি এই খবর ছড়িয়ে দেবেন যে, একজন সম্মানিত শাইখকে গণতান্ত্রিক সরকার দেশে ঢুকতে দিচ্ছে না। লেবানন সরকার বিষয়টি আমলে নেয় এবং শাইখ তাক্বিকে ঢোকার অনুমতি দেয়।

শাইখ তাক্বি লেবাননে আসার পর নিজের চিন্তা প্রচারে আত্মনিয়োগ করেন এবং ১৯৫৮ সাল অবধি উল্লেখযোগ্য কোন বাধার সম্মুখীন হননি। লেবাননের সরকার যখন তাঁর চিন্তার ভয়াবহতা বুঝতে পারল তখন তাঁকে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। শাইখ তখন বৈরুত ছেড়ে গোপনে লেবাননের ত্রিপলি শহরে চলে যান। শাইখের একজন বিশ্বস্ত বন্ধু বলেছেন, শাইখ বেশিরভাগ সময়ই লেখা ও পড়ায় নিজেকে নিয়োজিত রাখতেন। তিনি রেডিওতে বিশ্বসংবাদ শুনতেন এবং মেধাদীপ্ত সব রাজনৈতিক বিবৃতি দিতেন। তাঁর নামের অর্থ যেমন, তিনি তেমনি ধার্মিক ছিলেন – তাক্বিধার্মিক। তিনি সর্বদা তাঁর জিহ্বা সংবরণ ও দৃষ্টিকে অবনত রাখতেন। তাঁকে কখনও কোন মুসলিমের প্রতি রূঢ় হতে শোনা যায়নি। কাউকে কখনও অপমান করতে শোনা যায়নি, বিশেষ করে অন্যান্য দলের দাওয়াহ বহনকারী যারা ইজতিহাদগত কারণে তাঁর সাথে দ্বিমত পোষণ করতেন।

শাইখ ইরাকে নুসরাহ (নিষ্ঠাবান সামরিক অফিসারদের সমর্থন) অর্জনে বিশেষ গুরুত্ব দেন। এই উদ্দেশ্যে শাইখ নিজে বেশ কয়েকবার শাইখ আবদুল কাদিম যাল্লুমকে নিয়ে ইরাক গমন করেন; উপসেনাপ্রধান (ও পরবর্তীতে ইরাকের দ্বিতীয় প্রেসিডেন্ট) আবদুল সালাম আরিফ এর মতো কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির জন্য যাল্লুম সেখানে ছিলেন। শেষবারে ইরাক ভ্রমনে শাইখকে গ্রেফতার করা হয় এবং শারীরিক ও মানসিকভাবে তাঁকে অমানুষিক নির্যাতন করা হয়। কিন্তু জিজ্ঞাসাবাদে শাইখের কাছ থেকে তারা কোন তথ্য উদ্ধার করতে পারেনি। শাইখ শুধু বলে গেছেন, তিনি একজন বৃদ্ধ লোক ইরাক ভ্রমণের একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল চিকিৎসা। প্রকৃতপক্ষে শাইখ সেখানে অসুস্থ উম্মাহর চিকিৎসার জন্য গিয়েছিলেন, যা ছিল - খিলাফত। ইরাকি সরকার যখন কোন তথ্য উদ্ধার করতে পারেনি, তারা তাঁর হাত ভেঙে দিয়ে দেশ থেকে বিতাড়িত করে, প্রচন্ড নির্যাতনে তখন তিনি ছিলেন রক্তাক্ত। যখন তাঁকে নির্বাসিত করা হয় তখন জর্ডানের গোয়েন্দারা ইরাকি গোয়েন্দাদের জানায় বন্দী লোকটি আসলে ছিল শাইখ তাক্বি, যিনি ইরাকি গোয়েন্দাদের কাছে ছিলেন অতি আকাঙ্খিত ব্যক্তি। কিন্তু আলহামদুলিল্লাহ, শাইখ এরই মধ্যে তাদের নাগালের বাইরে নিরাপদ দূরত্বে চলে গিয়েছিলেন।

হিযব প্রতিষ্ঠায় শাইখ তাক্বি ছিলেন দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এবং তিনি যখন ইহকাল ত্যাগ করেন তখন তিনি ছিলেন তাঁর প্রত্যাশিত গন্তব্যের সন্নিকটে।

এই মহান উম্মাহ শাইখ তাক্বিকে শনিবার, ফজরের সময় (১ মুহাররম, ১৩৯৮) ১১ ডিসেম্বর, ১৯৭৭ সালে বিদায় জানায়। প্রকৃতপক্ষে তিনি ছিলেন একজন মহান নেতা, অগাধ জ্ঞানের অধিকারী, নিঃসন্দেহে বর্তমান সময়ের একজন মহান বিচারক, ইসলামী চিন্তার পুনর্জাগরণকারী, বিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে মহান চিন্তাবিদ, প্রকৃত মুজতাহিদ ও একজন অনুসরণীয় মনীষী। শাইখকে বৈরুতের আল ওযায়িকবরস্থানে দাফন করা হয়। শাইখ যে উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছিলেন ও চেষ্টারত ছিলেন তিনি তাঁর ফল ভোগ করে যেতে পারেননি। তিনি খিলাফত রাষ্ট্র দেখে যেতে পারেননি, যে উদ্দেশ্যে হিযব প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে। কিন্তু তিনি তাঁর এ দায়িত্ব তাঁর বিশ্বস্ত সহযোগী আবদুল কাদিম যাল্লুমের ওপর রেখে সৃষ্টিকর্তার সাথে সাক্ষাত করেন। যদিও শাইখ নিজের চোখে খিলাফত দেখে যেতে পারেননি, কিন্তু তাঁর প্রচেষ্টা হিযবকে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দিয়েছে এবং পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে মানুষ এই চিন্তাকে সমাদৃত করেছে। লক্ষ লক্ষ লোক এই চিন্তাকে গ্রহণ করেছে এবং যারা তাঁর মাধ্যমে প্রশিক্ষিত হয়েছেন, তারা পৃথিবীর আনাচে কানাচে পৌঁছে গিয়েছেন। এমনকি আজও পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের যালিমদের কারাগারগুলো শাইখ কর্তৃক প্রচারিত চিন্তা গ্রহণ ও দাওয়াহ বহনের কারণে পরিপূর্ণ হয়ে আছে।